You can use WP menu builder to build menus

এম মতিউর রহমান মামুন*
———————-
বঙ্গবন্ধু কন্যা মাতৃত্বের আসনে আছেন, দেশে শত সহস্র শন্তান তাঁর মুখপানে চেয়ে আছেন। আর তার চেয়ে বড় কথা হ’ল মায়ের শ্নেহ তো ভাগাভাগি করা যায়না, বরং মায়ের কাছে আবেদন করা যায়। ‘ মা’ তাঁর সঠিক কাজটাই করেণ। আমরাও আজ তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি জননেতা আব্দুল জলিল সাহেবের নওগাঁ যেন বঞ্চিত না হয়।
আর পরিশ্রমি নেতা ইসরাফিল আলমের দাবি অমুলক নয়।
———————————–

মধ্যেদিনে আধোঘুমে, আধো জাগরণে/ বোধকরি স্বপ্নে দেখেছিনু আমার সত্তার আবরণ / খসে পড়ে গেল আজানা নদীর স্রোতে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংসয় প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর অবর্তমান নিয়ে। এমন একটি সংসয় প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল জলিল। তাঁর অবর্তানে প্রিয় নওগাঁর আওয়ামী লীগের আবস্থা কি হবে? তাঁর সমস্ত জীবনে মেধা মননে প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যে , সৃষ্টি তা কি মুছে যাবে? আমরা কি তাঁর সৃষ্টিকর্ম লালন করতে পারবো। পতিসর বাংলোতে মৃত্যুর কিছুদিন আগে এমন সংসয়ই প্রকাশ করেছিলেন। জননেতা আব্দুল জলিল সাহেব জাতির পিতার ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন।

index

৭০ এর সাধারণ নির্বাচন যখন আমাদের দোর গড়ায় জননেতা আব্দুল জলিল তখন ব্যরিস্টারি পড়তে লন্ডন আবস্থান করছিলেন। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু তখন তাঁর সকল প্রিয় সহচর কে একত্র করার লক্ষে জননেতা আব্দুল জলিল সাহেব কে টেলিফোনে বলেছিলেন ” হ্যালো উত্তর বঙ্গের জেনারেল”, ওদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ আসন্ন, আমাদের কে নির্বাচনে জিততে হবে, সারা বাংলায় নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে হবে, নৌকার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে। তুমি দ্রত দেশে ফিরে এসো, দেশকে যদি মুক্ত করতে না পারি, দেশের মানুষকে যদি বাঁচাতে না পারি কি হবে তোমার ব্যারিস্টারি পড়ে?” বঙ্গবন্ধুর এমন ফোন পেয়ে জননেতা আব্দুল জলিল দেশে ফিরে আসেন। মাত্র দু’মাস বাঁকি ছিল তাঁর ব্যারিস্টার হতে। আব্দুল জলিল সাহেব দেশে ফিরে বর্ষামাসে ডিাঙ্গি নৌকাতে মাইক নিয়ে ভেসে ভেসে বঙ্গবন্ধুর নৌকার পক্ষে ভোট প্রর্থনা করেন, ঐ নৌকাতে জলিল সাহেবের সঙ্গে আমার পিতা প্রচারে ছিলেন, তাঁর কাছেই আলোচ্য গল্প আমার শুনা। সেই সময় আমার পিতা নিজ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাচীবিক দায়িত্ব পালন করেছেন দুই শত টাকা বিঘা দরে জমি বেচে। তাই জলিল সাহেব বাবাকে আনেক ভালবাসতেন।

আমরা নওগাঁর মানুষ, জলিল সাহেব আমাদের রাজনৈতীক দেবতা, গুরু , মহাগুরু তা অস্বিকার করার পথ নেই। আমি মুক্তি যুদ্ধ দেখিনি তাঁর বিশাল ভুুমিকির কথা পড়েছি, শুনেছি যুদ্ধের পর বিশাল অংকের টাকা দেশের কথা চিন্তা করে ব্যাংকে ফেরত দেওয়ার কথা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে বলিষ্ঠ নেত্রীত্ব দেখেছি, লাগি- বৈঠা আন্দোলনের তাঁর সিংহগর্জন এখন আমার কানে ভাসে। তাঁর বর্নাঢ্য কর্মময় জীবন আমাদের ইতিহাস। তাঁর প্রমান পেলাম আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেন আগে জননেতা আব্দল জলিল সাহেবের প্রিয় নওগাঁর কি অবস্থান তা জানতে সুদুর জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন করেছেন বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাসী আব্দুল জলিলি ভক্ত এক বাঙালি অধ্যাপক, গবেষক। ব্যাক্তিগত আমার সংগে তাঁর পরিচয়ের কারণ তিনি রবীন্দ্র গবেষক বলে। তিনি আমার কাছে যানতে চাইলেন, শ্রদ্বেও নেতা আব্দুল সাহেবের অবর্তমানে আমরা কেমন আছি? আমরা কেমন আছি তা খুব সহজেই বলতে পেরেছি, বাকি সব আমার জন্য কঠিন কারণ আমি রাষ্ট্রীয় পলিটিকস্ বুঝিনা, যতটুকু বুঝি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ্য প্রতিষ্ঠা হলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তাই যতটা পারি জাতির পিতার আদর্শের বাণী প্রচার করে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করি।

14875880_1888198354741541_676016775_o

যাহোক তাঁর আরও যে জিজ্ঞাসা ছিল ” জলিল সাহেবের প্রিয় নওগা থেকে এবারে কেউ কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্থান পাবে কিনা? আপনাদের এম, পি ইসরাফিল আলমের পজিশন কি হবে” এমন আরও কিছু। ইসরাফিল আমল কে নিয়ে তাঁর আগ্রহের কারণ জামাত বি এন পি হটাও আন্দোলনে পল্টনে যেদিন ইসরাফিল আলমকে রাস্তায় ফেলে অমানবিক নির্যানত করছিল ঠিক সেই সময় আধ্যাপক স্যার পল্টনে গাড়ি থামিয়ে পুরো ঘটনা দেখেছিলেন এবং তাঁর প্রতিবাদও করেছিলেন। ইসরাফিল আলম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পতিসরে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী এক সংগে পালনও করেছেন।

যাহোক কার কি পজিশন হবে তা আনেকাংশে নির্ভর করবে বঙ্গবন্ধু কন্যার উপর। কেননা বিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তরুণ, সৎ, পরিশ্রমি, যোগ্য, দক্ষ, ত্যাগি নেতৃত্বকে এগিয়ে রেখেছেন। বাকিটা নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে করবেন, কেননা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাতৃত্বের আসনে আছেন, দেশে শত সহস্র শন্তান তাঁর মুখপানে চেয়ে আছেন। আর তার চেয়ে বড় কথা হ’ল মায়ের শ্নেহ তো ভাগাভাগি করা যায়না, বরং মায়ের কাছে আবেদন করা যায়। ‘ মা’ তাঁর সঠিক কাজটাই করেণ। আমরাও আজ তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি জননেতা আব্দুল জলিল সাহেবের নওগাঁ যেন বঞ্চিত না হয়।

* লেখক রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক।

শেয়ার করুনঃ

No Comments

Leave a Comment